ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬ , ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নবীকন্যা ফাতিমার (রা.) তিন অনন্য গুণ

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ১৮-০৬-২০২৬ ০৬:০৮:২৮ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৮-০৬-২০২৬ ০৬:০৮:২৮ অপরাহ্ন
নবীকন্যা ফাতিমার (রা.) তিন অনন্য গুণ প্রতীকী ছবি
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ছোট ও প্রিয় মেয়ে ছিলেন হজরত ফাতিমা (রা.)। মাত্র ২০ থেকে ২৯ বছর বয়সের মধ্যেই তিনি ইন্তেকাল করেন। তবে এই সময়ের জীবনে তিনি যেভাবে নিজের তারুণ্যকে অতিবাহিত করেছেন, তা আজ বিশ্বজুড়ে তরুণ প্রজন্মের জন্য এক পরম অনুপ্রেরণা।

হজরত উসামা বিন জায়েদ (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে, সাহাবিরা যখন মহানবী (সা.)-এর কাছে জানতে চেয়েছিলেন যে তার পরিবারের মধ্যে কে তার সবচেয়ে প্রিয়, রাসুল (সা.) স্পষ্টভাবে উত্তর দিয়েছিলেন—ফাতিমা বিনতে মুহাম্মদ।

হজরত ফাতিমাকে আজ-জাহরা উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল, যার অর্থ দীপ্তিময় বা উজ্জ্বল আভার অধিকারী। এ ছাড়া তাকে উম্মে আবিহা বা তার পিতার মা বলেও ডাকা হতো। কারণ মায়ের ইন্তেকালের পর তিনি যেভাবে ছায়ার মতো থেকে মহানবী (সা.)-এর সেবা ও যত্ন করেছিলেন, তা শুধু একজন স্নেহময়ী মায়ের পক্ষেই সম্ভব।

হজরত ফাতিমা (রা.)-এর জীবনের তিনটি অনন্য গুণ নিচে আলোচনা করা হলো:

মানসিক দৃঢ়তা ও অসীম সাহসিকতা

হজরত ফাতিমা (রা.) পিতার মতোই অত্যন্ত সাদাসিধে জীবনযাপন করতেন। শৈশব থেকেই তাকে বিভিন্ন ধরনের প্রতিকূলতা ও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে এই চ্যালেঞ্জগুলো তাকে দুর্বল করেনি, বরং সমবয়সী অন্যদের চেয়ে আরও বেশি দৃঢ় ও সাহসী করে তুলেছিল।

তখনও তিনি কৈশোরে পা দেননি, এমন এক বয়সে তিনি সাহসিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। একদিন মহানবী (সা.) কাবার সামনে নামাজ আদায় করছিলেন, এ সময় ওকবা বিন আবি মুইত নামের এক কাফের রাসুল (সা.)-কে অপমান ও শারীরিক আঘাত করার চেষ্টা করে। এই খবর শুনে ছোট্ট ফাতিমা এক মুহূর্তও দেরি না করে দৌড়ে কাবার চত্বরে যান এবং বাবাকে আগলে রেখে শত্রুদের হাত থেকে রক্ষা করেন।

জীবনের অগ্রাধিকার সঠিকভাবে নির্ধারণ করা

হজরত ফাতিমা (রা.) প্রতিদিনের সাংসারিক ব্যস্ততা ও কষ্টের মাঝেও ইবাদত-বন্দেগিতে প্রচুর সময় কাটাতেন। বিয়ের পর বাবার বাড়ি থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার পরও মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে তার আত্মিক ও আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত গভীর।

মহানবী (সা.)-এর অন্তিম শয্যাশায়ী হওয়ার দিনগুলোর একটি ঘটনা হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন। রাসুল (সা.) একদিন ফাতিমাকে কাছে ডেকে কানে কানে কিছু একটা বললেন, তা শুনে ফাতিমা কেঁদে উঠলেন। এরপর রাসুল (সা.) আবার তার কানে কানে কিছু বললেন, এবার ফাতিমা হেসে উঠলেন। হজরত আয়েশা (রা.) পরবর্তীতে ফাতিমার কাছে এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রথমবার বাবা আমাকে তার ইন্তেকালের খবর জানিয়েছিলেন, তাই আমি কেঁদেছিলাম। আর দ্বিতীয়বার তিনি আমাকে বললেন যে তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আমিই প্রথম তার সঙ্গে পরলোকে মিলিত হব, এই আনন্দের খবর শুনে আমি হেসেছিলাম। (সহিহ মুসলিম)

পিতার বিচ্ছেদের বেদনায় ব্যাকুল হলেও, পরকালে দ্রুত তার সঙ্গে দেখা হবে—এই বিশ্বাসে তিনি আনন্দিত হয়েছিলেন। 

অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, মহানবী (সা.) তাকে জানিয়েছিলেন যে তিনি হবেন জান্নাতের সমস্ত নারীদের নেত্রী বা সর্দার। হজরত ফাতিমা (রা.) খুব ভালো করেই জানতেন যে দুনিয়ার এই দুঃখ-কষ্ট সাময়িক, আর মানুষের আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত পরকালের চিরস্থায়ী সুখ অর্জন করা।

রাসুল (সা.)-কে অনুসরণের মাধ্যমে ভালোবাসার প্রমাণ

মহানবী (সা.)-এর সন্তানদের মধ্যে একমাত্র হজরত ফাতিমা (রা.)-ই রাসুল (সা.)-এর ইন্তেকালের পর কিছুদিন বেঁচে ছিলেন। জীবনের সিংহভাগ সময় মানবজাতির সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষকের সান্নিধ্যে কাটানোর ফলে তিনি নিজে নারীজাতির জন্য এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে উঠেছিলেন। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে, আমি চালচলন, আচার-ব্যবহার এবং বসা ও দাঁড়ানোর ভঙ্গিতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে ফাতিমা বিনতে রাসুলুল্লাহর চেয়ে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ আর কাউকে দেখিনি। (জামে আত-তিরমিজি)

আমাদের চিরচেনা অভ্যাস বা জীবনধারা হঠাৎ করে পরিবর্তন করে মহানবী (সা.) বা হজরত ফাতিমা (রা.)-এর আদর্শ পুরোপুরি ধারণ করা হয়তো কঠিন। কিন্তু আমাদের অন্তত একটি ছোট পদক্ষেপ দিয়ে শুরু করা উচিত।

আমরা প্রতিদিন মহানবী (সা.), তার পরিবার ও সাহাবিদের জীবনী পড়ার অভ্যাস করতে পারি। যুগের পরিবর্তনে আমাদের চ্যালেঞ্জগুলো হয়তো ভিন্ন, কিন্তু তাদের জীবনকাহিনীতে যে শিক্ষা রয়েছে, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। যেকোনো কথা বলা বা কাজ করার আগে আমাদের নিজেদের প্রশ্ন করা উচিত—আজ যদি মহানবী (সা.) বা হজরত ফাতিমা (রা.) এই পরিস্থিতিতে থাকতেন, তবে তারা কী করতেন?

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ